ঢাকা , বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ , ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ম্যাজিক হবে না, দুই-তিন মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসবে হাম : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী


আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-১৯ ১৭:০১:৪৬
ম্যাজিক হবে না, দুই-তিন মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসবে হাম : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ম্যাজিক হবে না, দুই-তিন মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসবে হাম : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক​

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেছেন,
বাস্তবতার বাইরে গিয়ে কোনো আশ্বাস দিতে চান না তিনি। তবে চলমান টিকাদান ও অন্যান্য কার্যক্রম সঠিকভাবে অব্যাহত থাকলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বুধবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে শিশুদের হাম নিয়ে পরিচালিত এক যৌথ গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। গবেষণাটি বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও আইসিডিডিআর,বি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে। 

এম এ মুহিত বলেন, দীর্ঘদিনের কোনো সমস্যা এক দিনে কিংবা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ম্যাজিকের মতো দূর করা সম্ভব নয়। টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এবং মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর সংকটের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তাই এক সপ্তাহের মধ্যে হাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে এমন অবাস্তব প্রতিশ্রুতি তিনি দিতে চান না। তবে সরকারি উদ্যোগগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে হামের প্রকোপ কমে আসবে।

হাম মোকাবিলায় সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই দাবি করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় যত দ্রুত সম্ভব টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মাঠকর্মীরা বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় ৪০ হাজার মাঠকর্মীর বিপরীতে শুরুতে মাঠে ছিলেন মাত্র ২৫ হাজার। এর পরও এক মাসের মধ্যে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও বড় ধরনের কার্যক্রম।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণায় শিশুদের অ্যান্টিবডি, বুকের দুধ পানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তবে শুধু হাসপাতাল, আইসিইউ কিংবা হাজার হাজার ভেন্টিলেটর বাড়িয়ে হামে মৃত্যু রোধ করা সম্ভব নয়। এই রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। বর্তমানে সেই কার্যক্রম চালু রয়েছে। নতুন হাসপাতাল বা আইসিইউ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের মূল লক্ষ্য সুস্থ শিশু নিশ্চিত করা।

শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিশুস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহরে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট কাটাতে দ্রুত পাঁচ হাজার চিকিৎসক, এক হাজার নার্স এবং এক লাখ নতুন মাঠকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এদিকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৯ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৮১৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, এ সময়ে দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৮০ জন। নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৯৮৯ জনের।

অনুষ্ঠানে শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান এ কে এম আজিজুল হক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকী।

গবেষণার ফলাফলের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।

এমএমআর

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ